বুধবার রাতে সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গণেশ পাগলের মেলার মূল মাঠের মধ্যেই বসেছে সারি সারি জুয়ার আসর। প্রায় ২০ টি জুয়ার আসরে চলছে রমরমা জুয়ার আসর। প্রতিটি জুয়ার আসর ৫-৬ জন করে পরিচালনা করছেন। তবে এসময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে কয়েকটি জুয়ার আসর ফেলে রেখে পালিয়ে যায় জুয়াড়ীরা। গভীর রাতে শুরু হয় আবার জুয়ার আসর। ভোরের দিকে জুয়ার আসরের দিকে যান দুই কনস্টেবল মেহেদী হাসান এবং জোবায়ের হাসান। এসময় মেহেদীর সাথে জুয়াড়ীদের কথা কাটাকাটি এবং হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা ৩০ রাউন্ড শর্টগানের বুলেট নিয়ে যায় জুয়াড়ীরা। এখবর বৃহষ্পতিবার বিকালে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। ব্যাপক অভিযান চালিয়ে বৃহষ্পতিবার রাতেই কদমবাড়ী মনষা মন্দিরের পিছন থেকে বুলেটগুলি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মেহেদী হাসান ও জোবায়ের হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মেলার মাঠে জুয়ার আসর পরিচালনাকারী মাসুদ নামে এক জুয়াড়ী বলেন, এসব কমিটির (গণেশ পাগল সেবাশ্রম কমিটি) লোকজন জানে, আমি কিছু জানি না। আমি ২ হাজার টাকার জন্য কাজ করি।
কালিপদ নামে আরেক জুয়াড়ী বলেন, এই জুয়াড় আসরটা প্রসাদ মেম্বার চালায়। সে কদমবাড়ী ইউনিয়নের বর্তমান মেম্বার।
গণেশ পাগল সেবাশ্রম কমিটির সভাপতি মিরন বিশ্বাস বলেন, জুয়াড় আসরের ব্যাপারে আমরা কিছু জানিনা।
রাজৈর থানার ওসি মাসুদ খান বলেন, খোয়া যাওয়া শর্টগানের ৩০ রাউন্ড বুলেট পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা রজু করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (২৮ মে) সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়িতে শুরু হয় প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী কুম্ভমেলা বা গণেশ পাগলের মেলা যা স্থানীয়ভাবে কামনার মেলা নামেও পরিচিত। আগামী শনিবার (৩১ মে) পর্যন্ত ৪ দিন ব্যাপী এ মেলা চলবে। মহামানব শ্রী শ্রী গণেশ পাগলের স্মরণে আয়োজিত এই ধর্মীয় উৎসবে দেশ ও বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। এ মেলাকে কেন্দ্র করে সহস্রাধিক ছোট বড় বিভিন্ন দোকান বসেছে। প্রতি বছর ১৫ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটে এ মেলায় বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটি।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ মে) রাত থেকেই দলে দলে জয় ডংকা ও নানা রকমের বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে জয় হরিবল ও জয়বাবা গণেশ পাগল ধ্বণি করতে করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাধু সন্যাসী ও ভক্তবৃন্দরা বাসে, ট্রাকে, ট্রলারে ও পদব্রজে মেলা প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শত বছর ধরে মাদারীপুর রাজৈরের কদবাড়ির দিঘীরপাড় এলাকার মহামানব শ্রী শ্রী গণেশ পাগল সেবাশ্রমে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই কুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। হিন্দু ধর্মাম্বলীদের শাস্ত্রমতে সত্য যুগে দেবতা ও অসুরদের মধ্যে সমুদ্র মন্থনে যে অমৃত সুধা উঠেছিল তা চারটি কুম্ভ পাত্রে হরিদ্বার, প্রয়াগ, উজ্জয়িনী ও নাসিক এ চারটি স্থানে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনার পর থেকে ভারতীয় মুনি ঋষিরা কুম্ভ মেলার আয়োজন করে আসছেন। শত বছর আগে জ্যৈষ্ঠ মাসের ১৩ তারিখে ১৩ জন সাধু ১৩ সের চাল ও ১৩ টাকা নিয়ে রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ীর দীঘিরপাড় এলাকায় ভারতের কুম্ভমেলাকে অনুসরণ করে এ মেলার আয়োজন করেন। সেই থেকে এখানে মহামানব শ্রী শ্রী গণেশ পাগল সেবাশ্রমে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মূল মেলা হয় এক রাতের জন্য। তবে এই মেলা চার দিন চলবে। কখনও কখনও সপ্তাহ ব্যাপীও হয়ে থাকে। এখানে বিভিন্ন দেবদেবতার ১০৮টি মন্দির রয়েছে।